দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানে আগ্রাসন চালানোর ৩৫তম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঘটনা ঘটে এবং বিমানটির দুই পাইলটের খোঁজে হন্যে হয়ে উঠেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এক পাইলটকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ইরান একই দিন দুই পাইলটকে ধরার জন্য জনপ্রতি ৬০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে। এরপর প্রশ্ন উঠেছে, কেন উভয় পক্ষই এতো মরিয়া পাইলটদের জীবিত পেতে।
মার্কিন বাহিনী পাইলটের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। তেহরানও সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনী এবং সাধারণ নাগরিকদের মাধ্যমে খুঁজছে। বিধ্বস্ত জেটে দুই পাইলট ছিলেন। একাধিক সংবাদ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এক পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও দ্বিতীয় পাইলটের সন্ধান এখনও চলমান।
সাবেক মার্কিন হেলিকপ্টার পাইলট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিউস্টন ক্যান্টওয়েল ও মেজর জেনারেল থমাস কুঙ্কেল জানান, বিমান বিধ্বস্ত হলে স্বয়ংক্রিয় সঙ্কেতের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর উদ্ধার অভিযানের মূল অগ্রাধিকার হলো নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের অবস্থান নির্ধারণ। শত্রুপক্ষ প্রায়ই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেয়, যা অভিযানকে জটিল করে।
মার্কিন বাহিনী উদ্ধার অভিযানে সাধারণত ১০–২০ জনের দল, এইচএইচ-৬০ডব্লিউ হেলিকপ্টার, এইচসি-১৩০জে রিফুয়েলিং বিমান এবং প্রয়োজনে এ-১০ সাঁজোয়া বিমান ব্যবহার করে। এছাড়া ইলেকট্রনিক জ্যামিং বিমান মোতায়েন করা হতে পারে।
ইরান জানিয়েছে, নিখোঁজ পাইলট ধরলে বেসামরিকদের জন্য ৬০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগত যানবাহনে উদ্ধার অভিযান অনুসরণ করছে। তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, পাইলটের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা যাবে না।
পাইলটের ভাগ্য নিয়ে জল্পনা চলছেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইআরজিসি সম্পর্কিত পোস্টে পাইলটের অবস্থার অস্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কিছু সূত্র দাবি করছে, পাইলট জীবিত আছেন এবং মার্কিন বাহিনী তাকে উদ্ধার করতে চেষ্টা করছে। অন্যদিকে কিছু সূত্রের দাবি, পাইলট ইরানি বাহিনীর হাতে বন্দি হতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পাইলটকে জীবিত উদ্ধারের ফলাফল কৌশলগত ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি দ্রুত তাকে উদ্ধার করতে পারে, সংঘাত সীমিত রাখতে পারবে। তবে ইরান পাইলটকে আটক করলে উচ্চপর্যায়ের দরকষাকষি ও উদ্ধার প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে, যা যুদ্ধকে আরও জটিল ও দীর্ঘায়িত করবে।
এমএস/